Wednesday, May 18, 2016

ফল খারাপ হলে দায় প্রদেশ নেতৃত্বের ঘাড়ে চাপিয়েই রাহুলের ভাবমূর্তি অটুট রাখার চেষ্টা করবে কং ম্যানেজাররা | সন্দীপ স্বর্ণকার - বর্তমান

আঙুল উঠবে অধীরের বিরুদ্ধে

নয়াদিল্লি, ১৮ মে: পশ্চিমবঙ্গে আগামীকাল সাইক্লোনের পূর্বাভাস শুনিয়ে রেখেছে আবহাওয়া দপ্তর! আবহাওয়ার পূর্বাভাস মিলুক না মিলুক, ভোটের ফল খারাপ হলে কংগ্রেসের অন্দরে বাইরে যে দোষারোপের সাইক্লোন বইবে, তা বলাই বাহুল্য! এআইসিসির নেতাদের একাংশ এখন থেকেই প্রদেশ নেতৃত্বকে এড়াতে শুরু করেছেন।
বুথ ফেরত সমীক্ষা দেখে নিজের দলের প্রদেশ শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে কথা না বলে তাঁরা সিপিএমের শীর্ষ নেতাদের মত জানতে চাইছেন। মিডিয়ার মুখোমুখি হওয়া এড়াতে মোবাইল ফোন সুইচ অফ করে রাখবেন বলেও তাঁরা ঠিক করেছেন। রাজ্যে রাজ্যে আগামীকাল দলের ভরাডুবি হলে সোনিয়া-রাহুল গান্ধীর ইমেজে বাঁচাতে হাইকমান্ডের ম্যানেজাররা স্ট্র্যাটেজি তৈরি রেখেছে বলে এআইসিসি সূত্রে খবর। ফল খারাপ হলে তার দায় প্রদেশ নেতৃত্বের ঘাড়েই চাপানোর চেষ্টা হবে বলে জানা গিয়েছে। প্রদেশ সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরির বিরুদ্ধে জোটে লড়ার গোঁয়ার্তুমি নিয়েও অনেকেই আঙুল তুলবেন বলে রাজনৈতিক মহলের মত। 
কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে রাহুল গান্ধী ১২ টি, সোনিয়া গান্ধী ৪ টি নির্বাচনী সভা করেছেন। অসমে সোনিয়ার সভা হয়েছে ৪টি, রাহুল সভা করেছেন ১৩ টি, তামিলনাড়ুতে রাহুল তিনটি জায়গায়, সোনিয়া গান্ধী এক জায়গায় প্রচারে গিয়েছিলেন। কেরলে আচমকা জ্বরের কারণে রাহুল প্রচার এড়িয়ে গৃহবন্দি হয়ে গেলেও কংগ্রেস সভানেত্রী ২ টি সভা করেছেন। তাহলে অসম, কেরলে হার হলে তার দায় কি হাইকমান্ডের ওপর বর্তায় না? 
প্রশ্ন করায় এআইসিসির ম্যানেজাররা বলছেন, অসমে টানা কংগ্রেসের সরকার চলছে। কেরলে তো পাঁচ বছর পর বদলই একপ্রকার রীতি। ফলে হারলে আশ্চর্যের কিছু নেই। আর পশ্চিমবঙ্গ? সেখানে বামেদের হাত ধরে জিততে না পারলে কি কংগ্রেস একূল ওকূল দুকূলই হারাবে? প্রশ্ন করায় দলের মুখপাত্র মণীশ তিওয়ারি বলেন, বুথ ফেরত সমীক্ষার ফল নাও তো মিলতে পারে। 
কিন্তু ভোটের ফল যদি সত্যিই বুথ ফেরত সমীক্ষার সঙ্গে মিলে যায়, তাহলে উত্তরে অসম এবং দক্ষিণে কেরল কংগ্রেসের হাতছাড়া হচ্ছে। তামিলনাড়ুও খুব একটা আশার আলো দেখায়নি। পশ্চিমবঙ্গে অধীর চৌধুরির নেতৃত্বে বামেদের সঙ্গে জোট করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতাচ্যূত করা সম্ভব হবে বলেই কংগ্রেস হাইকমান্ডকে বোঝানো হয়েছিল। কিন্তু সমীক্ষা বলছে, মমতাই থাকছে। পুদুচেরিতে কংগ্রেস জিতলেও তা জাতীয় রাজনীতিতে তেমন কোনও গুরুত্ব পাবে না। 
তাই রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বের স্টাইল নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাবে। যোগ্য নেতাদের পাত্তা না দিয়ে তাঁবেদার কংগ্রেসিদেরই রাজ্যে রাজ্যে নেতৃত্বে রেখে দেওয়ার অভিযোগ উঠবে। অসমে হেমন্ত বিশ্বশর্মাকে বড় দায়িত্ব না দিয়ে তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈয়ের ছেলে গৌরব, পাঞ্জাবে ক্যাপ্টেন অমরিন্দরকে গুরুত্বহীন করতে গিয়ে বাজওয়াকে সামনে আনার চেষ্টা, রাজস্থানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটকে প্রায় গুরুত্বহীন করে শচীন পাইলটের নেতৃত্বে দল চালানোর চেষ্টা, মধ্যপ্রদেশে কমলনাথের মতো নেতাকে কার্যত অকেজো করে রেখে জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে সংসদে এবং রা঩জ্যে গুরুত্ব দেওয়া, এরকম এক গুচ্ছ ঘটনায় রাজ্যে রাজ্যে কংগ্রেস ক্রমশ দুর্বল আর গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের শিকার হচ্ছে। অথচ দিল্লিতে বসে স্রেফ নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করে রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার স্বপ্নে মশগুল হয়ে আছেন বলেই রাজনৈতিক মহলের মত। এআইসিসির এক সাধারণ সম্পাদক একান্ত আলাপচারিতায় এদিন বলেন, দলটা এখন স্রেফ বয়ানবাজির দল হয়ে দাঁড়াচ্ছে। মোদির সমালোচনা করা ছাড়া কোনও কাজ নেই। সেই কারণেই পুরসভা জিতলে তাকে জাতীয় ইস্যু বানানোর চেষ্টা হচ্ছে। গতকাল দিল্লি পুরসভায় ৪ টি আসন জিতেছে কংগ্রেস। যদিও তাতেও তারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হতে পারেনি। অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি সবার আগে রয়েছে।

No comments:

Post a Comment